ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ও ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং এর মধ্যকার পার্থক্য

ইলেক্ট্রিক্যাল ও  ইলেক্ট্রোনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং এর গোড়াপত্তন থেকেই একটা কমন প্রশ্ন লক্ষণীয়, ইলেক্ট্রিক্যাল ও  ইলেক্ট্রোনিক্স বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য কি? আমরা অনেকেই এই দুই বিষয়কে একসঙ্গে গুলিয়ে ফেলি। ইলেক্ট্রিক্যাল ও ইলেক্ট্রোনিক্স এর সমন্বয়ে গঠিত হয় ইইই ( ইলেক্ট্রিক্যাল ও ইলেক্ট্রোনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং)। যা প্রায় সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সারির পঠিত বিষয়। কিন্তু এখনো ইইই এর নাম শুনলে অনেক বাঙালীর চোখে ভাষে বাসা-বাড়ির ইলেক্ট্রিক মিস্ত্রি! যারা লাইট ফ্যান ঠিক করে, হাউজ ওয়্যারিং করে। এই ভ্রান্ত ধারনার কারন হচ্ছে ইলেক্ট্রিক্যাল ও ইলেক্ট্রোনিক্স বিষয়ে আমাদের অজ্ঞতা। তাই আজকের আলোচনার মূখ্য বিষয় এই  মধ্যকার পার্থক্য।
আমাদেরকে আগে ইলেক্ট্রিক্যাল ও ইলেক্ট্রনিক্স সম্পর্কে পার্টিকুলার জ্ঞান অর্জন করতে হবে।

ইলেক্ট্রক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং

ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বা তড়িৎ প্রকৌশল হল ইঞ্জিনিয়ারিং ফিল্ড বা ক্ষেত্রের সেই শাখা যেখানে সাধারণত বিদ্যুৎ  এবং তড়িৎচুম্বকত্ব নিয়ে গবেষণা এবং প্রয়োগ করা নিয়ে বিশদ পড়াশুনা বা জ্ঞান লাভ করা হয়।

ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর কাজের উদাহরন হল-

  • ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিকস
  • অপটিক্স
  • পাওয়ার
  • আলো বা লাইটিং
  • মোটর, জেনারেটর, মেশিন
  • পাওয়ার ট্রান্সমিটিং ইত্যাদি।

 

ইলেক্ট্রোনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং

বিভিন্ন নন-লিনিয়ার এবং একটিভ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ইলেকট্রনিক্স উপাদান এবং ডিভাইসের ইলেকট্রনিক সার্কিট, ডিভাইস এবং সিস্টেম ডিজাইন যেমন ইলেক্ট্রন টিউব এবং অর্ধপরিবাহী ডিভাইস, বিশেষ করে ট্রানজিস্টর, ডায়োড এবং ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট ইত্যাদি নিয়ে যে শিক্ষা তা ই হল ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং।

ইলেক্ট্রোনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং এর কাজের উদাহরন হল-

  • বিভিন্ন পোর্টেবল মিউজিক ডিভাইস
  • ব্রডকাস্টিং সিস্টেম
  • টেলিকমিউনিকেশন ডিভাইস এবং সিস্টেম
  • অ্যানালগ সার্কিট্রি ইত্যাদি।

 

ইলেক্ট্রিক্যাল ও ইলেক্ট্রোনিক্স এর পার্থক্য সহজ ভাষায় বলতে গেলে-          ইলেক্ট্রিক্যাল –  ইলেক্ট্রন এর প্রবাহ সম্পর্কিত

ইলেক্ট্রোনিক্স – চার্জ এর প্রবাহ সম্পর্কিত

ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং হাই ভোল্টেজ, কন্ডাক্টর, সেমিকন্ডাক্টর, ইন্সুলেটর সব কিছু নিয়েই। আর ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং হল বিশেষ ভাবে লো ভোল্টেজ নিয়ে যেমন সেমিকন্ডাক্টর, আইসি ইত্যাদি নিয়ে। একারণেই ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং হল ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর একটি শাখা মাত্র। আর ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং হল ইলেক্ট্রনিক্স সহ হাই ভোল্টেজ, পাওয়ার, মেশিন অর্থাৎ সব কিছু মিলিয়েই।

যেমন একটি মোবাইল ফোন যেই টেকনোলজিতে তৈরি করা হয়, তা হল ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং আর মোবাইল ফোন দিয়ে সিগন্যাল আদান প্রদানের মাধ্যমে যেই টেকনোলজিতে যোগাযোগ করা হয়, তা হল ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং। আর দু’ইয়ে মিলে হল ইলেক্ট্রিক্যাল এবং ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বা ইইই।

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *