থ্রিজি ও ফোরজি নেটওয়ার্ক এর পার্থক্য | কেন ঠিকমত থ্রিজি পাননা

আজ আপনাদের সাথে থ্রিজি ও ফোরজি নিয়ে কিছু কথা বলবো।বর্তমানে বাংলাদেশের প্রতিটি স্থানে পৌছে গেছে 3rd generation বা তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্কিং সেবা থ্রিজি।কিন্তু পরিসংখ্যান করলে দেখা যাবে দেশের শতকরা ৭০% মানুষই সঠিক থ্রিজি সেবা পায়না।এর অবশ্য কারণ ও রয়েছে।প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ এই থ্রিজি সমস্যার কারণে অপারেটরদের চৌদ্দ গুষ্ঠি উদ্ধার করছেন।কিন্তু আমার মনে হয়না ১০% মানুষও জানার চেষ্টা করেননি কেন এই সমস্যা কেন পর্যাপ্ত টাওয়ার থাকার পরও সঠিক ভাবে দেয়া যাচ্ছেনা!আবার নেটওয়ার্ক ভালো পেলেও গতি ঠিকমত পাননা।

কিছুদিন আগে চালু হয়েছে 4th generation Network বা চতুর্থ প্রজন্মের ফোরজি নেটওয়ার্ক সুবিধা।কিন্তু সবাই এটাকে নিয়ে শুরু করেছেন হাসি তামাশা।কারণ সবাই বলছেন যেখানে থ্রিজিই পাইনা সেখানে আবার ফোরজি,টুজির গতি পেয়েছি থ্রিজিতে থ্রিজির গতি পাবো ফোরজিতে,এদের আবার ফোরজি ব্লা ব্লা ব্লা :V !!

আসুন জেনে নিই কেন এই সমস্যা হয়।
আমাদের দেশে বর্তমানে টুজি,থ্রিজি ও কিছুদিন আগে চালু হওয়া ফোরজি সেবা রয়েছে।এখন আপনাদের একটা তথ্য দেই আমাদের দেশে টুজি নেটওয়ার্ক চলছে ৯০০ ও ১৮০০ ব্যান্ডের উপরে।আর থ্রিজি নেটওয়ার্ক সেবা দেয়া হচ্ছে ২১০০ মেগাহার্টজ ব‍্যান্ডের মাধ্যমে।আর ফোরজি সেবা চালু করা হয়েছে আগের ১৮০০ মেগাহার্টজ ব‍্যান্ডের মাধ্যমে।

আপনারা থ্রিজি ব্যবহার এরআগে যখন টুজি ব‍্যবহার করতেন তখন আপনারা টুজির সঠিক স্পিডই পেয়েছেন এবং নেটওয়ার্ক ও ভালো ছিল।খেয়াল করলে দেখবেন টুজিতে যখন কথা বলবেন তখন কল ড্রপ,নেটওয়ার্ক সমস্যা হওয়া এসব বিভিন্ন সমস্যা হবেনা।কিন্তু থ্রিজিতে এসব নিত‍্য সমস্যা।হঠাৎ নেটওয়ার্ক চলে যাওয়া,কল ড্রপ,ইন্টারনেট এর গতি কম এগুলো প্রতিদিনই ভোগ করতে হয়।এরকারন হলো থ্রিজির সেই ২১০০ ব‍্যান্ড।এই ব‍্যান্ডের সবচেয়ে বড় সমস্যা গুলো দেখে নিন নিচে:

১)যেসব এলাকায় বহুতল ভবন বেশি সেখানে এর নেটওয়ার্ক মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি করে।
২)যেসব এলাকায় গাছপালা বেশী সেখানে থ্রিজির সিগন‍্যাল বাধাপ্রাপ্ত হয়।
৩)ভবনের বা দেয়ালের অভ‍্যন্তরে এটি এর নেটওয়ার্ক অবনতির হার অনেক বেশি।
৪)এটির দক্ষতা অন‍্যান‍্য ব‍্যান্ড থেকে কম।

আপাতত এগুলোই হল ২১০০ ব্যান্ডের প্রধান সমস্যা।এখন আপনি যতই অপারেটরদের গালি দেন না কেন তারা তেমন কিছুই করতে পারবে না।আবার আপনি যদি এখন সরকারকে গালি দেন এই বলে যে কেন ২১০০ ব্যান্ড দিল তাহলে আমি বলবো থ্রিজির জন্য প্রায় সব মোবাইলই ২১০০ ব‍্যান্ড সমর্থন করে।এবং সমগ্র বিশ্বেই থ্রিজি এভাবেই চলছে।কারণ এটা এমনই।থ্রিজি থেকে ভালো নেটওয়ার্ক আশা করতে হলে সবস্থানে টাওয়ার বসিয়ে ঘন করে ফেলেন :V !এছাড়া আর সমাধান নেই।আর এটা থেকে মুক্তি দিবে ফোরজি।কারণ ফোরজির ব‍্যান্ড ১৮০০ মেগাহার্টজ।এই ব‍্যান্ডের প্রধান সুবিধা গুলো হল:

১)ডেটা ট্রান্সফার রেট বা ইন্টারনেটের গতি অনেক বেশি।
২)থ্রিজি থেকে অনেক অনেক ভালো নেটওয়ার্ক পাবেন যখন থ্রিজির মত সবস্থানে ফোরজি হয়ে যাবে।
৩)ভবন বা দেয়ালের ভেতরে অনেক ভালো কভারেজ পাবেন।
৪)থ্রিজি থেকে এরগতি অন্তত ৫০গুন বেশি!
৫)উচ্চগতির ফ্রিকোয়েন্সি।
৬)গাছপালা ও বহুতল ভবনের এলাকায় ও অনেক ভালো নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সুবিধা পাবেন।
৭)থ্রিজি এরমত এর সিগন‍্যাল বাধাগ্রস্ত হয়না।
শেষ কথা হলো গালাগালি বন্ধ করেন।কারণ গালি দিয়ে তো আর ভালো নেটওয়ার্ক পাবেন না??!!
মোবাইল কোম্পানি,সরকার,অপারেটর, তৈরিকারকসহ সবার কাছেই আপনি আমি বন্দি :V !!
ওহহ একটা কথা বলতে ভুলে গিয়েছি যদি আপনি ফোরজি ইতিমধ্যে পেয়েও যান এবং স্পিড কম পান তাহলে গালি না দিয়ে ধৈর্য ধরুন।মাত্র শুরু হয়েছে।সবগুলি মোবাইল টাওয়ার ফোরজির আওতায় চলে এলে ইনশাআল্লাহ সমস্যা কেটে যাবে।

আর যারা ফোরজি পেয়েও ব্যবহার করতে পারছেন না তাদের জন্য বলে রাখি ফোরজি ব‍্যবহার করতে হলে অবশ‍্যই অবশ্যই অবশ্যই আপনার ফোরজি সমর্থিত ফোন,সিমকার্ড লাগবে।এবং অবশ্যই ফোরজি কভারেজ এরিয়ায় থাকতে হবে।কোন একটিও না থাকলে হবেনা।অনেকেই রবিতে ফোরজি এমবি পেয়ে ব্যবহার করতে না পেরে প্রচুর গালি দিয়েছিলেন।তাদের অন্তত এটা মাথায় রাখা উচিত ছিল ফোরজি ব‍্যবহার করবেন কিন্তু ফোরজি ফোন,নেটওয়ার্ক, সিমকার্ড ছাড়া কীভাবে সম্ভব!!!!যাদের ফোরজি ফোন নেই তারা রাউটার ব্যবহার করে ফোরজি সেবা পেতে পারবেন।

এটা নিয়ে আরেকদিন আলোচনা করবো।খোদা হাফেজ

Comments

comments