ব‍্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ‍্যান | One of the Seven Wonders of the Ancient World

আজকে আপনাদের সামনে তুলে ধরবো এক ঐতিহাসিক ও সুপ্রাচীন,সুবিখ‍্যাত স্থানের কথা।হয়তো অনেকেই এর আগে এই স্থানটির নাম শুনেছেন।এর নাম “ব‍্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ‍্যান “। অনেকে আবার “ব‍্যাবিলনের শূন্য উদ‍্যান” নামেও চিনে থাকেন। ইরাকের বিখ্যাত ইউফ্রেটিস নদীর তীরে খ্রীষ্টপূর্ব ৬০০সালে রাজা নেবুচাদনেজার তার প্রিয়তমা স্ত্রীর জন্য এটি তৈরি করেছিলেন। নেবুচাদনেজার এর সবচেয়ে সেরা স্থাপনা বলা যায় এটিকে।এটি ছিল আসলে এক বিশাল ফুলের বাগান।এটি গড়ে তোলার পিছনে সবচেয়ে বড় অবদান তার স্ত্রীর।তার প্রিয়তমা স্ত্রীর ভালো লাগত পাহাড় পর্বত।ব‍্যাবিলন রাজ‍্যটি ছিল সমতল।যার ফলে কোন পাহাড় সেখানে ছিল না।প্রিয়তমা স্ত্রীকে খুশি করতেই রাজ প্রাসাদের উপর বিশাল এক পাহাড় ও সাথে মনোরম এক ঝর্না তৈরী করলেন নেবুচাদ।সেখানেই তৈরি করলেন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বাগান।পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকে বাহারি আর নজরকাড়া সব ফুলের গাছ এনে লাগানো হল সেখানে।

আসুন এবার জেনে নেই এর নির্মাণশৈলিঃ

প্রথমে নির্মাণ করা হয় বিশাল এক ভিত।এটিকে স্থাপন করা হয় রাজার উপাসনালয়ের ছাদে।এর উপরেই তৈরি করা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আশ্চর্য এক ফুলের বাগান।বাগানটি তৈরিতে কাজ করেছিল প্রায় ৪,০০০ শ্রমিক। বাগনটির পরিচর্যা ও যত্নের জন্য প্রায় ১০৫০-১১০০ মালী ছিল। কয়েকহাজার রকমের বিভিন্ন ফুলগাছ রোপন করা হয়েছিল এই বাগানে।মাটি থেকে এটি প্রায় ৮০ফুট উপরে ছিল।বাগানটির পানির চাহিদা মেটানো হত নদী থেকে নেয়া পানি দিয়ে। বিশালাকার কিছু পেচানো নল ছিল বাগানে পানি তোলার জন্য।

খ্রিষ্টপূর্ব ৫১৪ সালে পারস‍্য সম্রাট সাইরাস জেরুজালেম দখলের পর এই শহরটি ধ্বংস করে দেন। পুড়িয়ে দিয়েছিলেন এই রাজাপ্রাসাদ সহ সমস্ত কিছু। একইসঙ্গে পুড়ে যায় এই দৃষ্টিনন্দন বাগানটি ও। ব‍্যাবিলন এখন একটি ধ্বংসাবশেষ এর নাম। তবে এটি স্থান করে নিয়েছে সপ্তশ্চর্যের তালিকায়

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *