প্রাচীন মায়ান সভ‍্যতা | এক রহস্যের নাম

আধুনিক সমাজের বিকাশে অনেক প্রচীন সভ্যতার অবদান রয়েছে। মায়ান সভ্যতা সেসকল সভ্যতার মধ্যে অন্যতম। বর্ণিল এই সভ্যতায় যেমন ছিল হিংস্রতা, নিষ্ঠুর আদিমতা, তেমনি বিকাশ হয়েছিল জ্ঞান বিজ্ঞানেরও।

খ্রীষ্টপূর্ব ২৬০০ বছর আগে মায়ান সভ্যতা গড়ে ওঠে। প্রায় চার হাজার বছর পূর্বে কিভাবে একটি সভ্যতা এত উন্নত ছিল তা আজও এক বিরাট রহস্য । খ্রীষ্টপূর্ব ২৬০০ বছর আগে পৃথিবীবাসী কেবল আগুনের আবিষ্কার করে তা দিয়ে খাবার সেদ্ধ করা শিখেছে। সে সময়ে একটি স্বতন্ত্র ও সামাজিক জাতি হিসেবে মায়া সভ্যতার প্রতিষ্ঠা, আজও ভ্যাবায় বিশ্বব্যাপি আর্কিওলজিস্টদের। যখন বিশ্বের অন্যান্য জাতি তখনো প্রাকৃতিক আশ্রয়ে বসবাস করত, সে সময় এই জাতি পাথর দিয়ে তৈরি করেছিল বিশাল বিশাল সব ঘরবাড়ি। বিশ্বের অন্যসব জাতি যখন সম্পূর্নরূপে ভাষাও রপ্ত করতে পারেনি, সেসময় এই জাতি নিজেদের ভাষায় তৈরি করেছিল একরকম ক্যালেন্ডার। ধারনা করা হয় আধুনিক ক্যালেন্ডার পদ্ধতির ধারনা মায়া সভ্যতা থেকে পাওয়া যায়।
মায়ানরা সে সময়ে সৌরজগতের বিভিন্ন উপাদান দিয়ে পড়াশুনা করত, জ্যোতির্বিদ্যার চর্চা করত। সেসময় তারা গান গাইত, কবিতা আবৃতি করত। অর্থাৎ রীতিমত সাহিত্যচর্চা করতো! সমগ্র আমেরিকান মহাদেশজুরে অন্য কোনো প্রাচীন সভ্যতার এমন নিদর্শন পাওয়া যায়নি।মায়ানরা মৃতদেহের সৎকার করত। মৃতদেহের ওপর সমাধিও নির্মান করত। এভাবেই তারা পিরামিড ও মমি তৈরির ধারনা পেয়ে গেল।মিসরের সুউচ্চ পিরামিড ও মমির মতো বিশাল না হলেও সেই ছাঁচের মমি ও পিরামিড তৈরি করতো তারা। মায়ানদের সভ্যতা বিখ্যাত হয়ে আছে ওদের স্থ্যাপত্যের জন্য। ওদের তৈরি বিশাল বিশাল ঘরবাড়ি, ওদের তৈরি পিরামিড আর মূর্তিগুলোর জন্য।মায়ানদের সম্পর্কে এমন অবাক করার মতো অনেক তথ্য জানা গেছে, যা এত আদিম সভ্যতার পক্ষে ধারন করা সত্য বিষ্ময়কর!

মায়ানরা অন্যান্য সভভ্যতার মত ব্রোঞ্জ বা লোহার অস্ত্র ব্যাবহার করত না। তারা অস্ত্র হিসেবে আগ্নেয় শিলা ব্যাবহার করত।
মায়ানরা চ্যাপ্টা কপাল বিশিষ্ট ছিল। মায়ান সভ্যতার জ্ঞানী-মানি ব্যাক্তিগন চেহারা সুন্দর করার জন্য তারা পুডিন ব্যাবহার করত। অর্থাৎ আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্লাস্টিক সার্জারির ধারনা হয়তো মানুষ সেখান থেকেই পেয়েছে।
মায়ান সমাজের অভিজাত নারীরা দাতে বিন্দু একে নকশা করত।
ব্যাবেলিওনদের পাশাপাশি মায়ানরা সর্বপ্রথম জমি পরিমাপের ক্ষেত্রে শূন্যের (০) ব্যাবহার করে।
মায়ানরা বন্দিদের মেরে ফেলার আগে তাদের সারা শরীর নীল রঙে রাঙিয়ে নিতো। মেরে ফেলার আগে তারা বন্দিদের উপর নির্মম অত্যাচার করত। এমনকি তাদের পিরামিডের উপর শুইয়ে ধারালো ছুড়িদিয়ে হৃদপিন্ড বের করে ফেলত। কখনো কখনো বন্দিদের চামড়া তুলে ফেলা হত। মধ্যযুগেও এই ধরনের বর্বরতা ছিল। বন্দিদের শরীরের চামড়া তুলে ফেলার পর মায়ান ধর্মযাজক সেই চামড়া পড়ে নাচ পরিবেশন করতো।
মায়ানরা যে জ্যোর্তিবিজ্ঞানে পারদর্শি ছিল তার স্পষ্ট উদাহরন হল তাদের তৈরি ক্যালেন্ডার। তাদের বেশ কয়েকরকমের ক্যালেন্ডার তৈরি করে। ‘হাব’ তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য। এতে বছরকে আধুনিক ক্যালেন্ডারের মতই ৩৬৫ দিনে ভাগ করা হয়েছিল। তাদের দীর্ঘতম ক্যালেন্ডারটি ছিল ২৮৮০০০০ দিনের। তাদের হিসাব অনুযায়ী ক্যালেন্ডারটি শেষ হয় ২০১২ সালে। তারা এই দিনটিকে পৃথিবী ধ্বংশের ভবিষ্যৎবাণী হিসেবে নির্ধারন করে।
মায়ানদের চিকিৎসা বিদ্যা অনেক উন্নত ছিল। তারা শরীরের ক্ষত মানুষের চুল দিয়েই সেলাই করে ফেলতো। এছাড়াও দাতের গর্ত পূরণ, নকল পা লাগানোতেও পারদর্শী ছিল তারা।
অভিজাত মায়ান পরিবারে মায়েরা শিশুদের কপাল ঘসে দিতো, যেন কপাল চ্যাপ্টা হয়। এমনকি চোখ ট্যারা করার চেষ্টাও করা হতো।

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *