রেজিস্টর কালার কোড | কালার ব্যান্ড দেখে বলে দিন রোধের মান

ইলেক্ট্রনিক্স জগতে রেজিস্টর বা রোধকের কোনো বিকল্প নাই। প্রায় সকল সার্কিটেই রেজিস্টর ব্যবহার করতে হয়। আমরা জানি এই রোধকের মান ভিন্ন ভিন্ন হয়। একেক কালার ব্যান্ডের জন্য একেক মান। এই মান গুলো বের করার কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। রয়েছে কিছু ক্যালকুলেশন।
আমরা যারা নতুন তারা এই  ক্যালকুলেশন সম্পর্কে অনেকেই অবগত নই। তাদের পক্ষে রেজিস্টর দেখে মান বোঝা খুবই মুশকিল হয়ে পরে। তখন তাদের শরণাপন্ন হতে হয় অভিজ্ঞ বড় ভাইদের নিকট।  কিন্তু এখন আর বড় ভাইদের পিছনে পিছনে ঘোরার কোন প্রয়োজন নেই। এই আর্টিকেলটি লেখার উদ্দেশ্য একটিই , যাতে আমরা সবাই রেজিস্টর সম্পর্কে ভাল জ্ঞান অর্জন করতে পারি।

আজকে আমরা যা যা শিখবো-

  • মাল্টিমিটার ব্যাবহার করে রেজিস্টরের মান নির্ণয়;
  • কালার কোড ক্যালকুলেশন ব্যবহার করে রেজিস্টরের মান নির্ণয়;

 

 

মিটারের সাহায্যে মান নির্ণয়ঃ

ইইই তে যেকোনো যন্ত্র থেকে রিডিং নেয়ার আগে দেখতে হবে সেই যন্ত্রের কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি আছে কিনা?
Multimeter ব্যবহার করে রেজিস্টরের মান নির্ণয়ের ক্ষেত্রে শুরুতে আমাদেরকে দেখতে হবে মাল্টিমিটারের কাটা শূন্যের ঘরে আছে কিনা?
না থাকলে মিটারের জিরো এডজাস্টমেন্ট নব দিয়ে কাটাকে শূন্য পজিশনে আনতে হবে। তারপর মিটারকে ওহম পজিশনে নিতে হবে। মিটারের প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ।  এখন মিটারে ক্যাবল দুটিকে রেজিস্টরের দুই প্রান্তে সংযুক্ত করতে হবে। এতেই মিটার রেজিস্টরের মানের Reading দিবে।।

কালার কোডের সাহায্যে মান নির্ণয়ঃ

মাল্টিমিটারের সাহায্যে রেজিস্টরের মান নির্নয় সহজ হলেও সবসময় এটা দিয়ে মান নির্ণয় সম্ভব না। আর প্রকৃত ইইই (EEE)  শিখতে হলে কালার কোড শেখার কোনো বিকল্প নেই।

এই পর্যায়ে আমাদেরকে রেজিস্টরের কালার কোড সম্পর্কে একটু ধারনা নিতে হবে। যারা একদম নতুন , তাদের হয়তো কালার কোড সম্পর্কে ধারনা নাও থাকতে পারে।

কালার কোড কি?
রেজিস্টরের  (Resistor)গায়ে বিভিন্ন রঙের দাগ দ্বারা চিহ্নিত করা থাকে, এগুলোকে কালার কোড (Color Code) বলে।

 

কালার কোড এর সিরিয়াল মনে রাখার উপায়ঃ

 

 

এবার  মান নির্ণয় পদ্ধতি দেখবোঃ

১ম কালারের মান লিখব, ২য় কালারের মান লিখব, ৩য় কালারের মান যত হবে ততগুলো শুন্য দিবো, ৪র্থ কালার ব্যান্ডকে টলারেন্স হিসেবে ধরা হয়।

 

এ পর্যায়ে আমাদেরকে বুঝতে হবে টলারেন্স কি?

            যখন রেজিস্টর কারখানায় তৈরী হয় তখন কারখানার যান্ত্রিক ত্রুটি এবং রেজিস্টভ উপাদানের মিশ্রনের তারতম্যের কারনে ১০০ ভাগ সঠিক মান পাওয়া যায়না বরং প্রকৃত মান হতে কিছুটা বিচ্যূতি ঘটে এই বিচ্যূতিকে টলারেন্স বলে।

রেজিস্টরের সোনালী বা রুপালী যে রিং থাকে তাকে  ৪র্থ রঙ বা ব্যান্ডকে টলারেন্স ব্যান্ড বলে। অনেক সময় ৪র্থ রেজিস্টরের রঙ দেওয়া থাকেনা তখন রেজিস্টরের গায়ের রঙ টলারেন্স হিসেবে ধরা হয়। তখন ৪র্থ রঙের জন্য বলা হয় নো কালার।। টলারেন্স কালার আছে Gold যার মান  হলো +/-5% । সিলবারের জন্য +/-10%

 

ধরি একটি রেজিস্টরের কালার কোড যথাক্রমে লাল, বেগুনী, বাদামী, সোনালী

  • তাহলে লাল এর জন্য লিখবো ২,
  • বেগুনী জন্য লিখবো ৭,
  • বাদামীর জন্য লিখবো ১,  তাহলে ১*১০ =১০
  • সোনলি টলারেন্স (+-৫%)

রেজিস্টরের মান আসবে,  ২৭*১০=২৭০ ওহম

 

এভাবেই আমরা রোধের মান জানতে পারব।

 

 

ধন্যবাদ সকলকে।

সাথেই থাকুন

 

 

 

 

 

Comments

comments