‘হ্যান্ড অব গড’ এর জন্য গ্রেপ্তার হতে পারতেন ম্যারাডোনা

ম্যারাডোনার সেই বিতর্কিত গোল। হেডের ছলে হাত দিয়ে গোল করছেন। ছবি: টুইটারম্যারাডোনার সেই বিতর্কিত গোল। হেডের ছলে হাত দিয়ে গোল করছেন। ছবি:FACEBOOK 

১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হেরেছিল ইংল্যান্ড। এই ম্যাচে আর্জেন্টিনার প্রথম গোলটি হাত দিয়ে করেছিলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। পরে যা ‘হ্যান্ড অব গড’ তকমা পেয়েছে। ম্যারাডোনা নিজেই জানালেন, ভিএআর প্রযুক্তি থাকলে ওই গোলটার জন্য তিনি গ্রেপ্তারও হতে পারতেন

আর্জেন্টাইনদের কাছে ১৯৮৬ বিশ্বকাপ মানেই ডিয়েগো ম্যারাডোনা। মাঠে নানারকম সৃষ্টিসুখের উল্লাসে বিশ্বকাপ জেতানো মহানায়ক। সেই ম্যারাডোনাই আবার ইংলিশদের কাছে চিরকালীন দুঃখের কারণ। ’৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যারাডোনার জোড়া গোলেই তো বিদায় নিয়েছিল ইংল্যান্ড। তবে সেই বিদায়ের চেয়ে ম্যারাডোনার জোড়া গোলই ইংলিশদের বেশি পোড়ায়। একটি গোল তো বিশ্বকাপ ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা, আরেকটি মহা বিতর্কিত—‘হ্যান্ড অব গড’!



ফ্রান্সের সাবেক মিডফিল্ডার ও আর্সেনাল কিংবদন্তি রবার্ট পিরেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকার ম্যারাডোনা তাঁর সেই বিতর্কিত গোলটা নিয়ে মুখ খুলেছেন। এমন নয় যে তিনি এই গোলটা নিয়ে আগে কখনো কিছু বলেননি। নিজের কৃতকর্মের জন্য সেই ম্যাচের রেফারি আলী বিন নাসেরের কাছে এর আগে ক্ষমা চেয়েছিলেন ম্যারাডোনা। যদিও বলেছিলেন, ওই গোলটা তিনি ‘ঈশ্বরের হাত দিয়ে’ করেছিলেন। তবে এবার ম্যারাডোনা জানালেন, আধুনিক প্রযুক্তি থাকলে ওই গোলটার জন্য তিনি গ্রেপ্তারও হতে পারতেন!

মেক্সিকোর অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে সেদিন ৫১ মিনিটে ইংলিশ ডিফেন্ডার স্টিভ হজের ভুলের সদ্ব্যবহার করে হাত দিয়ে গোল করেছিলেন ম্যারাডোনা। হেডের ছলে তাঁর হাতের টোকায় গোল করা এতটাই নিখুঁত ছিল যে রেফারি আলী বিন নাসেরের চোখ এড়িয়ে যায়। তবে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি স্বীকার করেছেন, এই যুগের মতো ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তি থাকলে সেটা গোল হতো না।

অনলাইন বেটিং প্রতিষ্ঠান ‘বিউইন’-এর বিশ্বকাপ নিয়ে আয়োজনের অংশ হিসেবে ম্যারাডোনার সাক্ষাৎকার নেন পিরেস। সেখানে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা ম্যাচে ভিএআর প্রযুক্তি কি ঘটতো বলে মনে করেন? ম্যারাডোনার জবাব, ‘হয়তো গ্রেপ্তার হতাম। কারণ ৮০ হাজার দর্শকের সামনে আপনি চুরি করতে পারবেন না।’

মেক্সিকো (১৯৮৬) বিশ্বকাপের নথি-পত্র বলছে, অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে সেদিন দর্শক উপস্থিতি ছিল লাখের ওপরে। সেখানে ম্যারাডোনার মুখে তার চেয়েও কম—আশি হাজার দর্শকের কথা শুনেই বিস্মিত পেরেসের প্রশ্ন, ‘মানে! আশি হাজার!? কোন হাত ছিল, বাম?’ ম্যারাডোনা বাম হাত তুলে বলেন, ‘এইটা।’ গোলটা করার পর বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল ইংলিশ খেলোয়াড়েরা। ম্যারাডোনা কিন্তু গোলের দাবিতে অটল ছিলেন। তাঁর ভাষ্য, ‘বলটার ঠিক পেছনেই আমার মাথা ছিল এবং ফেনউইক (ইংলিশ ডিফেন্ডার) বলল “হাত, হাত”। আমি বললাম, কীসের হাত? এটা গোল।


মহা বিতর্কিত সেই গোলটার ৪ মিনিট পরই ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল করেছিলেন ম্যারাডোনা। অনেকের মতেই ‘শতাব্দীর সেরা গোল’। মাঝমাঠ থেকে দৌড় শুরু করেছিলেন সাবেক এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। প্রায় ১০ সেকেন্ডের মধ্যে ৬০ গজ দূরত্ব পারি দিয়ে ইংলিশ গোলপোস্টে হানা দেওয়ার আগে চার ডিফেন্ডারকে বোকা বানান ম্যারাডোনা। এরপর ইংলিশ গোলরক্ষক পিটার শিলটনকেও অসহায় বানিয়ে তাঁর করা গোলটি একক প্রচেষ্টায় ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলের মর্যাদা পেয়ে যায়।

Comments

comments