বাংলাদেশের সবচেয়ে বিষধর সাপগুলো

বাংলাদেশের মানুষ যে সরিসৃপ প্রানীকে সবচেয়ে বেশি ভয় পায় তা হল সাপ। আসছে বর্ষাকাল।বর্ষাকালেই বাংলাদেশে সাপ সবচেয়ে বেশি দেখি যায় ।কারণ এই সময় চারদিকে পানির কারনে তাদের আবাসস্থল পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়।শুকনো আশ্রয়ের খোজে তখন সাপ আশ্রয় নেয় মানুষের বাড়ি বা বাড়ির আশেপাশে শুকনো জায়গায়।যেজন‍্য এই সময়ে মানুষ সাপের কামড়ের স্বীকার ও বেশি হয়।



আজকে আপনাদের জানাবো বাংলাদেশে রয়েছে এমন কয়েকটি বিষধর সাপের নাম ও পরিচয়।

১)গোখরা বা কোবরা

আমাদের দেশে কয়েক প্রজাতির বিষধর সাপ দেখা গেলেও নির্বিষ সাপের সংখ্যাই বেশি। বন-জঙ্গলে, গ্রামাঞ্চলে, ফসলের ক্ষেতে কিংবা বসতবাড়ির আশপাশে যে বিষধর সাপ দেখা যায় তার নাম গোখরা। গোখরার তিনটি প্রজাতি রয়েছে। এরা হল গোখরা, খইয়া গোখরা এবং রাজ গোখরা বা King Cobra


গোখরার দেহের রঙ কালো কিংবা ধূসর এবং পুরো শরীরে হলুদ আড়াআড়ি দাগ রয়েছে। মাথার পেছনে রয়েছে চৌকোনাকার দাগ। খইয়া গোখরার দেহে কোনো আড়াআড়ি দাগ নেই, তবে মাথার পেছনে রয়েছে চশমাকৃতির চিহ্ন। এদের দেহের রঙ কালো কিংবা বাদামি বর্ণের। রাজ গোখরা পৃথিবীর বিষধর সাপের মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং অন্যতম।একবার ছোবল দেয়ার পর এটি যে পরিমাণ বিষ নির্গত করে তাতে অন্তত ১০০জন মানুষকে মেরে ফেলার মত নিউরোটক্সিন থাকে।

২)কেউটে সাপ

গোখরার মতোই বিষধর সাপ হল কেউটে। এদেশে তিন প্রজাতির কেউটে দেখা যায়। এরা হল সাদা-বেড় কেউটে, কাল কেউটে এবং শঙ্খিনী। এরা নিশাচর। উজ্জ্বল হলুদ-কালো ডোরাকাটা শঙ্খিনী সাপ দেখতে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। সাধারণত এরা জলাধারের আশপাশে থাকতে বেশি পছন্দ করে।

গোখরার মতই দেখতে অনেকটা কেউটে সাপ।এরাও গোখরার মত করে ফনা তুলে থাকে।আকাঁরে ছোট হলেও প্রচুর বিষাক্ত এই সাপ।মাত্র ৩০মিনিটেই একজন মানুষকে সম্পূর্ণ মেরে ফেলতে পারে এই সাপের বিষ।

৩)সবুজ বোড়া সাপ বা গ্রীন পিট ভাইপার

সুন্দরবন, সিলেট ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি বনাঞ্চলে উজ্জ্বল সবুজ রঙের সবুজবোড়া দেখা যায়। এরা বিষধর সাপের তালিকায় অন্যতম। আমাদের দেশে তিন প্রজাতির সবুজবোড়া থাকলেও বেশি দেখা যায় সাদাঠোঁট সবুজবোড়া। ত্রিকোণাকার মাথা এদের অনন্য বৈশিষ্ট্য। গোলাকার হলুদ চোখ এবং সারা শরীরে উজ্জ্বল সবুজ ও হলুদ রঙের মিশ্রণ থাকায় এরা দেখতে অত্যন্ত চমৎকার।

বাংলাদেশে ভাইপার প্রজাতির দুটো সাপ পাওয়া যায় একটি হলো এই গ্রীন পিট ভাইপার আরেকটির কথা একটু পরেই বলছি।এই গ্রীন পিট ভাইপার এর বিষ ভয়ানক বিষাক্ত।ভাইপারই প্রজাতির সাপ গুলোই একমাত্র সাপ যাদের নিউরোটক্সিন বিষ মাংস গলিয়ে দেয়ার ক্ষমতা রাখে।এই গ্রীনপিট ভাইপার গাছের সবুজে মিশে থাকে বলে একে খুজে পাওয়া খুবই কঠিন।

৪)লাল-ঘাড় ঢোঁড়া

দেশে উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্বের পাহাড়ি বনাঞ্চলে লাল-ঘাড় ঢোঁড়া সাপ নামে আরেক প্রজাতির বিষধর সাপ রয়েছে। এরা দিবাচর। বিভিন্ন প্রজাতির ব্যাঙ, গিরগিটি ইত্যাদি খেয়ে থাকে।

৫)রাসেল ভাইপার

প্রায় ২৫ বছর পর এই সাপ আবার দেখা যাচ্ছে। এই সাপে কামড় দিলে দ্রুত মানুষের শরীরে রক্ত জমাট বেঁধে যায়। চিকিৎসা দেওয়ার প্রায় সময় পাওয়া যায় না। এই সাপ দু-তিন ফুট লম্বা হয়। বছরে দুবার ২০ থেকে ৩০টি ডিম দেয়।

গ্রীনপিট ভাইপার এরপর এটাই আরেক ভাইপার প্রজাতির সাপ যাকে বাংলাদেশে পাওয়া যায়।এই সাপ বাংলাদেশে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল ২৫/৩০ বছর আগে।২০১২ সালে আবার হঠাৎ করেই এদের রাজশাহীতে দেখা যায় আবারো।


যেখানে কামড় দেয় সেই স্থান পচে যায় ৭/৮ দিনের মধ্যে।এর কোন এন্টিভেনম এখনো পাওয়া যায়নি তৈরির চেষ্টা চলছে।তবে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকরা এর চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন একটি যন্ত্র ব‍্যবহার করে।যেটি শুধুমাত্র সারাদেশের মধ্যে রাজশাহী মেডিকেল কলেজেই পাওয়া যায়।

৬)বড়শিনাক সি স্নেক

পৃথিবীতে যত রকমের সাপ রয়েছে তার মধ্যে সামুদ্রিক সাপ গুলোই হল সবচেয়ে ভয়াবহ।বাংলাদেশে ও এইরকম কিছু বিষাক্ত সামুদ্রিক সাপ পাওয়া যায়।তার মধ্যে অন‍্যতম হলো বড়শিনাক বা beaked sea snake সাপ।বিলুপ্তপ্রায় এই সাপটি বাংলাদেশের সাপ গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিষাক্ত হিসেবে ধরা হয়।তাছাড়া এটি এই গ্রহের ও অন‍্যতম বিষধর সাপ।এরা সাধারণত সমুদ্রে থাকতেই ভালোবাসে।প্রজনন এর সময় তীরে উঠে আসে ডিম দেওয়ার জন্য।এর এক কামড়ে যে পরিমাণ বিষ ঢেলে দেয় তাতে ১,০০০ জন মানুষের জীবন কেড়ে নেয়ার জন্য যথেষ্ট।

Comments

comments