এলেন! হাসলেন! দেখলেন! জয় করলেন ! আবার চলে গেলেন!

কয়েক দিন আগেই লিভারপুলকে হারিয়ে রিয়াল মাদ্রিদকে টানা তিন চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জিতিয়েছেন কোচ জিনেদিন জিদান। কিন্তুু হঠাৎ দমকা হাওয়ার মত রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়-সমর্থক সবাইকে অবাক করে ক্লাব ছাড়ছেন। এতে অবাক হয়েছেন ক্লাব সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজও জিনেদিন জিদান যেখানে কোচ হিসেবে দলকে নিয়ে অসাধারণ তিন মৌসুম কাটালেন,
ভঙ্গুর রিয়াল মাদ্রিদ যখন ডুবন্ত, ঠিক তখনই জিনেদিন জিদানের হাতে তুলে দেওয়া হয় রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব। সে দায়িত্ব নিয়েই আড়াই বছরে মোট ৯টি শিরোপা যোগ করেছেন ক্লাবের কেবিনেটে।
❐রিয়ালের হয়ে কোচ জিদানের সাফল্য
ম্যাচ : ১৪৯
জয় : ১০৪
ড্র : ২৯
হার : ১৬
গোল : ৩৯৩
শিরোপা : ৯

সেখানে বিদায়ের কথা ভাবা কল্পনাতীত ছিল। টানা তিন বছর রিয়াল মাদ্রিদ চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতানো কোচের হঠাৎ পদত্যাগের ঘোষণা মেনে নিতে পারেনি কেউই।

যেখানে ২০০৩ থেকে ২০০৬—তিন বছরে পাঁচজন কোচকে ছাঁটাই করে সবাইকে অবাক করে দেওয়া পেরেজকে জিদানই উল্টো অবাক করলেন।

আজকে রিয়াল মাদ্রিদের কোনো পূর্বনির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন ছিল না। কিন্তু হুট করেই কিছুক্ষণ আগে খবর আসে, সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে রিয়াল মাদ্রিদ, কোচ জিনেদিন জিদানের বিশেষ অনুরোধে। বুঝতে বাকি থাকে না, কেন ডেকেছেন তিনি। সবাই ধারণা করতে থাকেন, তিনবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতে মাথা উঁচু করেই মাদ্রিদ ছাড়ছেন জিনেদিন জিদান। হলোও তাই। সংবাদ সম্মেলন করে মাদ্রিদ ছাড়ার কথা সবাইকে জানিয়ে দিলেন জিদান।

‘আগামী মৌসুমে আমি আর রিয়াল মাদ্রিদের কোচ থাকব না। এ দলের জয় অব্যাহত থাকা উচিত কিন্তু তিন বছর কাটানোর পর একটা পরিবর্তন দরকার।এ কারণেই আমি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ ক্লাবকে আমি ভালোবাসি এবং সভাপতিকেও। তিনি আমাকে এত বিশাল এক ক্লাবে এনেছেন এবং আমি এ জন্য সব সময় কৃতজ্ঞ থাকব। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে, একটা পরিবর্তন দরকার। তাই আগামী মৌসুমে থাকছি না।

‘আমরা অনেক কঠিন সময় কাটিয়েছি। মাঝে মাঝে অনেক কঠিন ছিল। কিন্তু সমর্থকদের কাছ থেকে মাঝে মাঝে এটাও দরকার হয়। কখনো খেলোয়াড়দেরও এটা দেখা দরকার।’

‘কিছুই না। দলের যে চাহিদা, সেটা অনেক চাপ ফেলে। সেদিন (চুক্তি নবায়ন করার কথা বলার দিন) হয়তো এমনটাই ভেবেছিলাম। কিন্তু পরে আমার ভিন্ন কিছু মনে হয়েছে, মত পরিবর্তন করেছি। আমি সব সময় বলেছি, এ ক্লাবে যেকোনো কিছু ঘটতে পারে এবং আমার সময় শেষ হয়েছে।’

‘আমি কঠোর পরিশ্রম করার চেষ্টা করেছি। সৎ থাকার চেষ্টা করেছি, ক্লাবকে গর্বিত করার চেষ্টা করেছি। আমি সব সময় আমার খেলোয়াড়ের সম্মান পেয়েছি এবং এটা ছাড়া কিছু অর্জন করা কঠিন। আমার সিদ্ধান্ত আমার সিদ্ধান্ত। খেলোয়াড়দের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই কিন্তু তিন বছর ধরে এত উচ্চমান ধরে রাখা কঠিন। আমি জন্মগতভাবে বিজয়ী এবং আমি জিততে ভালোবাসি। আমি হারতে অপছন্দ করি। যখনই মনে হয়েছে আমি জিতব না, তখনই মনে হয়েছে পরিবর্তন দরকার।

‘আমার সবচেয়ে প্রিয় মুহূর্ত হলো যখন আমি খেলোয়াড় হিসেবে রিয়ালে যোগ দিলাম। খেলোয়াড় হিসেবে এখানে আমার শেষটা ভালো হয়েছে এবং কোচ হিসেবেও সেটাই হয়েছে।’

একবিংশ শতাব্দীতে রিয়াল মাদ্রিদের সবচেয়ে সফল কোচ বলা হয়, কারন পেপ গার্দিওলা-টিটো ভিয়ানোভা আর লুইস এনরিকের বার্সেলোনার সঙ্গে টক্কর দেওয়ার মতো একটা দল তিনি গড়েছিলেন রিয়াল মাদ্রিদে এসে। চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে একমাত্র দল হিসেবে তাঁর কোচিংয়েই রিয়াল মাদ্রিদ জিতেছে টানা তিন চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা। যে কোচের অধীনে সাম্প্রতিককালের সবচেয়ে সাফল্যবিধৌত সময় কাটিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ, সে কোচকেই বিদায় জানাতে হচ্ছে তাদের।

Comments

comments